ইঞ্জিনিয়ার মো. মিজানুর রহমান (Engr. Md. Mizanur Rahman )
প্রথম পাতা » জীবনী » ইঞ্জিনিয়ার মো. মিজানুর রহমান (Engr. Md. Mizanur Rahman )![]()
ইঞ্জিনিয়ার মো. মিজানুর রহমান ১৯৮৭ সালের ২০ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দুবলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. গোলাম কাদির এবং মাতা তাহেরা আক্তার।
শিক্ষাজীবনের সূচনা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন, পরে ধনিয়াকান্দি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি সম্পন্ন করে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হতে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি ইন সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি রাজধানীর স্বনামধন্য ইলংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্কলাস্টিকায় জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকুরি শুর করে পরে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্নফুলি ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে এবং চট্রগ্রামের সনামধন্য ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠান সু-বসতি প্রপার্টিজ লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে যোগদান করে শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। নেত্রকোণা সদর উপজেলা সুদীর্ঘ নয় বছর কর্মকালীন সময়ে ডিজিটাল সেচ ব্যবস্থাপনার জন্য ই-লাইসেন্স এবং ডিজিটাল ভাবে মানবিক সহায়তা বাস্তবায়নের জন্য সফটওয়্যার ডেভেলাপ করেন। বর্তমানে তিনি হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management) বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে সমন্বিত করেছে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিজিডি ইন আইসিটি সম্পন্ন করেছেন এবং ওআইসি র অধীনস্থ সংস্থা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশ এডুকেশনাল ওয়াকফ (IDB-BISEW) আইটি স্কলারশিপ ডিপ্লোমা ইন সিভিল এন্ড আর্কিটেকচারাল ক্যাড রাউন্ড-০৫ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
সম্প্রতি তাঁর গবেষণাভিত্তিক একটি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে, যার বিষয় “টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব”।
জার্নালের সারসংক্ষেপ:
বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য বর্তমানে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল, দূষণ, বন উজাড়, অতিরিক্ত মাছ আহরণ, কৃষিতে সার ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, শিল্প ও পর্যটন বর্জ্য—এসবের সম্মিলিত প্রভাবে হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।
গবেষণায় সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরসংলগ্ন দুটি ইউনিয়নে মাঠসমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। প্রশ্নমালাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে ১০০ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ, প্রভাব এবং সম্ভাব্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা।
গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, প্রায় ৯,৭৮৭ হেক্টর আয়তনের টাঙ্গুয়ার হাওর অসংখ্য বিল, জলজ প্রাণী, মাছ, উদ্ভিদ ও পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কিন্তু কারেন্ট জাল, ভেটজাল, লাঠিজালসহ নিষিদ্ধ বিভিন্ন জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকারের ফলে পোনা মাছ থেকে শুরু করে মা মাছ পর্যন্ত নিধন করা হচ্ছে। মাটি ঘেঁষে জাল টানার কারণে পানির নিচের জলজ উদ্ভিদ, অণুজীব এবং অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, যা হাওরের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি।
উত্তরদাতাদের মতে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রধান কারণগুলো হলো:
ক. অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া;
খ. ঘন ঘন বন্যার ফলে স্থানীয় প্রাণ ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া;
গ.কৃষি, শিল্প ও পর্যটন বর্জ্যের কারণে পানির গুণগত মানের অবনতি;
ঘ.নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ আহরণ;
ঙ. ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও হাউসবোটের দূষণ;
চ. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশ দূষণের কারণে মাছ, কাঁকড়া, হিজল, করচসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।
গবেষণায় উপসংহারে বলা হয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গ্রহণের বিকল্প নেই। পরিবেশবান্ধব পর্যটন, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গুয়ার হাওরের অনন্য প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্ভব হবে।