শাহিনা আফরোজ
প্রথম পাতা » ই-বুক » শাহিনা আফরোজ![]()
কবি শাহিনা আফরোজ জন্মগ্রহণ করেন যশোর জেলার পুরাতন কসবায় পিত্রালয়ে, ১৬ই আগস্ট। পিতা আব্দুস সামাদ ও মাতা আমেনা খাতুনের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। পিতা ছিলেন একজন ব্যাংকার-ফলে শৈশব ও বেড়ে ওঠা যশোর শহরেই। খুব অল্প বয়স থেকেই তাঁর মেধা ও সৃজনশীলতার ঝলক ধরা পড়ে। বড় বোনের সঙ্গে মিশনারি স্কুলে যাতায়াত, বোনের বই পড়ে আধো আধো শব্দে মুখস্থ বলে দেওয়া-এসবই তাঁর শৈশবের স্মরণীয় অধ্যায়। মিশনারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার অনুরোধে বয়স বাড়িয়ে তাঁকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়, যা পরবর্তীতে আর সংশোধন করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তই এক সময় তাঁর জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে
যায়।
নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা কিংবা খেলাধুলা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিলেন দক্ষ ও অগ্রগামী। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রিয় মুখ ছিলেন তিনি। তবে জীবনের পথ সব সময় মসৃণ ছিল না।
পিতার অকাল মৃত্যু তাঁকে ভেঙে পড়তে দেয়নি; বরং অসহায় মা ও ভাইবোনদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। নিজের পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে ভাইবোনদের মানুষ করেন, আর অসীম কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চালিয়ে যান নিজের শিক্ষাজীবন। তখন মা ছাড়া তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো আর কেউ ছিলেন না। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তিনি টি এন্ড টিতে চাকরিতে যোগদান করেন এবং বর্তমানে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে কর্মরত। পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোঃ মোদাচ্ছের আলীর সঙ্গে, যিনি ডেসকোতে কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। স্বামীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় তাঁর জীবনের পথচলা আরও দৃঢ় হয়। লেখালেখির জগতে তাঁর অনুপ্রেরণা প্রথম জীবনে ছিলেন তাঁর বাবা, আর বিবাহের পর কঠিন পথচলার সাহসী সঙ্গী হয়ে ওঠেন তাঁর স্বামী। তাঁদের প্রেরণাতেই আজকের এই সাফল্য ।
দুই সন্তানের জননী এই কবি’র বড় ছেলে মাহিন আহাম্মেদ শামস-একজন সিএসই ইঞ্জিনিয়ার এবং ছোট ছেলে মাহাসিন আহাম্মেদ শাহিল-সি.এ অধ্যয়নরত। অসম্ভব মেধাবী ও স্বচ্ছ মানসিকতার মানুষ হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ এই দুই সন্তান–তাঁর স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পথচলার প্রধান প্রেরণা।
জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তিনি একজন কবি ও বাচিক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তির দক্ষতা বাড়াতে ‘বৈঠক’-এর ৫৬তম আবর্তনে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে ক্রাফট ইনস্টিটিউড থেকে ভয়েস ওভারের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বর্তমানে তিনি একজন সক্রিয় ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করছেন।
সংগ্রাম, সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রত্যয়ের এক অনন্য নাম। আমরা এই কবি’র সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
তথ্য সূত্রঃ বসন্তে খরতাপ
